Swapno Sathi : স্বপ্ন সাথি
  • Home
  • নবম শ্রেণি
  • মাধ্যমিক
  • একাদশ শ্রেণি
  • উচ্চ মাধ্যমিক
Type Here to Get Search Results !
হোমMadhyamik-GeographyMadhyamik Geography - বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ | এই অধ্যায়ের বহির্জাত প্রক্রিয়া ও নদীর কাজ এর সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 10

Madhyamik Geography - বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ | এই অধ্যায়ের বহির্জাত প্রক্রিয়া ও নদীর কাজ এর সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 10

SWAPNO SATHI মার্চ ২৭, ২০২৬ 0

◉ 1.1  বহির্জাত প্রক্রিয়া ◉

Class 10 Geography | First Chapter Question Answer | Part-01
Madhyamik Geography বহির্জাত প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর Class 10
Class 10 Geography | First Chapter Question Answer | Part-01

⊛ বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি - মান : 1

1. ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে ভূমি নীচু হওয়ার প্রক্রিয়া হল - 
 (A) অবরোহণ
 (B) আরোহণ
 (C) পর্যায়ন
 (D) ক্ষয়ীভবন
Ans : (A) অবরোহণ

2. সঞ্চয়কাজের মাধ্যমে ভূমি উঁচু হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে-
 (A) অবরোহণ
 (B) আরোহণ
 (C) পর্যায়ন
 (D) ক্ষয়ীভবন
Ans : (B) আরোহণ

3. ভূ-পৃষ্ঠের ওপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়-
 (A) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
 (B) বহির্জাত প্রক্রিয়া
 (C) গিরিজনি আলোড়ন
 (D) মহিভাবক আলোড়ন
Ans : (B) বহির্জাত প্রক্রিয়া

4. অসমতল ভূমি সমতলে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে-
 (A) অবরোহণ
 (B) আরোহণ
 (C) পর্যায়ন
 (D) মহিভাবক
Ans : (C) পর্যায়ন

5. আরোহণ ও অবরোহণের সম্মিলিত ফল হল-
 (A) পর্যায়ন
 (B) নগ্নীভবন
 (C) ক্ষয়ীভবন
 (D) আবহবিকার
Ans : (A) পর্যায়ন

6. নীচের কোনটি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
 (A) আবহবিকার 
 (B) নদী
 (C) ক্ষয়ীভবন
 (D) ভূমিকম্প
Ans : (D) ভূমিকম্প

7. নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ ইত্যাদি শক্তিগুলি হল-
 (A) বহির্জাত শক্তি
 (B) অন্তর্জাত শক্তি
 (C) জৈবিক শক্তি
 (D) কোনোটিই নয়
Ans : (A) বহির্জাত শক্তি

8. প্লাবনভূমি, ব-দ্বীপ ইত্যাদি সৃষ্টি হয় যে প্রক্রিয়ায়-
 (A) পর্যায়ন
 (B) আরোহণ
 (C) অবরোহণ
 (D) ক্ষয়ীভবন
Ans : (B) আরোহণ

9. অভিকর্ষজ টান কোন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত?
 (A) পুঞ্জিত ক্ষয়
 (B) ক্ষয়ীভবন
 (C) পর্যায়ন
 (D) আবহবিকার
Ans : (A) পুঞ্জিত ক্ষয়

10. আরোহণ প্রক্রিয়ায় গঠিত একটি ভূমিরূপ হল -
 (A) ব-দ্বীপ
 (B) বালিয়াড়ি
 (C) লোয়েশ সমভূমি
 (D) সবগুলি
Ans : (D) সবগুলি

11. আবহবিকার ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থগুলি নদী, বায়ু, হিমবাহ দ্বারা অন্যত্র প্রবাহিত হলে তাকে বলে -
 (A) আরোহণ
 (B) ক্ষয়ীভবন
 (C) পুঞ্জিত ক্ষয়
 (D) নগ্নীভবন
Ans : (B) ক্ষয়ীভবন

12. যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের শিলা নগ্ন বা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে  তা হল-
 (A) পুঞ্জিত ক্ষয়
 (B) নগ্নীভবন
 (C) আবহবিকার
 (D) পর্যায়ন
Ans : (B) নগ্নীভবন


⊛ শূন্যস্থান পূরণ করো - মান : 1

1. Grade(পর্যায়) কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন __________ ।
2. শিলাস্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে __________ ।
3. বহির্জাত শক্তির মূল উৎস হল __________ ।
4. Gradation বা পর্যায়ন কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন __________ ।
5. সমতলীকরণ প্রক্রিয়াটি __________ এর সঙ্গে যুক্ত।
6. বহির্জাত প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলে __________ ।

[উত্তরমালাঃ 1. গিলবার্ট, 2. নগ্নীভবন, 3. সূর্য, 4. চেম্বারলিন ও স্যালিসবেরি, 5. পর্যায়ন, 6. নদী।]


⊛ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও - মান : 1

1. শিলা যান্ত্রিক বা রাসায়নিকভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হলে তাকে কি বলে?
Ans : আবহবিকার।

2. কোন প্রক্রিয়ায় ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা হ্রাস পায়?
Ans : অবরোহণ।

3. ক্ষয়সীমা ধারণার প্রবর্তক কে?
Ans : পাওয়েল।

4. নদী ক্ষয়ের শেষ সীমা কোনটি?
Ans : সমুদ্রপৃষ্ঠ।

5. সঞ্চয় ও অবক্ষেপণ প্রক্রিয়া বলে কোন প্রক্রিয়াকে?
Ans : আরোহণ।


⊛ শুদ্ধ/অশুদ্ধ লেখো - মান : 1

1. আবহবিকারের সঙ্গে অপসারণ প্রক্রিয়া যুক্ত।
2. আরোহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গৌর, ইনসেলবার্জ সৃষ্টি হয়।
3. ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত হল বহির্জাত প্রক্রিয়া।
4. চূর্ণ-বিচূর্ণ শিলা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হলে তাকে বলে ক্ষয়ীভবন।
5. আবহবিকার, ক্ষয়ীভবন ও নগ্নীভবনের সম্মিলিত

[1. অশুদ্ধ, 2. শুদ্ধ, 3. অশুদ্ধ, 4. শুদ্ধ, 5. অশুদ্ধ।]


⊛ সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান : 2

1. বহির্জাত প্রক্রিয়া কি?

Ans : যে প্রক্রিয়ায় নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ প্রভৃতি বহিঃস্থ বা বাইরের প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ ভূপৃষ্ঠের উপর ক্রিয়াশীল হলে ভূমিরূপের পরিবর্তনশীলতা আনে ও নতুন রূপ দেয়। তাকে বলে বহির্জাত প্রক্রিয়া।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) বহির্জাত প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি হল নদী। (ii) ভূ-পৃষ্ঠ বা তার নীচে এই প্রক্রিয়ার প্রভাব বেশি। (iii) বহির্জাত প্রক্রিয়ার মূল উৎস হল সৌরশক্তি।
উদাহরণ: নদী, হিমবাহ, বায়ু।

2. নগ্নীভবন কী?

Ans : আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় বা ক্ষয়ীভবন এই তিনটি প্রক্রিয়ার যৌথ প্রভাবে শিলাস্তরের উপরিভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অপসারিত হলে অভ্যন্তর ভাগ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এভাবে শিলাস্তরের ভেতরের অংশ উন্মোচিত হয়ে পড়লে তাকে বলে নগ্নীভবন।
■ অর্থঃ ল্যাটিন শব্দ 'Denudase' থেকে ইংরাজি 'Denudation' শব্দটির উৎপত্তি। এর অর্থ To strip base বা to lay base বা নির্মোচিত হওয়া।
■ সূত্র: D = W+MW+E (D = Denudation; W = weathering; MW = Mass Wasting)
■বৈশিষ্ট্য: (i) ভূমিভাগের উচ্চতা কমে যায়। (ii) ভূমির মূল বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়।
(iii) এটি দু প্রকার- (a) স্থিতিশীল প্রক্রিয়া; (b) গতিশীল প্রক্রিয়া।

3. ক্ষয়ীভবন কী?

Ans : আবহবিকার দ্বারা বিচূর্ণিত শিলাখণ্ড ও শিলাচূর্ণ নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা দূরে অপসারণের মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের ক্ষয় হলে তাকে বলে ক্ষয়ীভবন।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) মূল শিলার অভ্যন্তরভাগ উন্মুক্ত হয়। (ii) মূল শিলার বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়। (iii) নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ হল ক্ষয়ীভবনের মাধ্যম।

4. অবরোহণ প্রক্রিয়া কী?

Ans : যে সকল বহির্জাত প্রক্রিয়া (নদী, হিমবাহ, বায়ু) দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠস্থ কোনো স্থানের ভূমিরূপের উচ্চতা কমে যায়, তাকে বলে অবরোহণ প্রক্রিয়া।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) ভূমির উচ্চতা কমে যায়। (ii) ভূমির ঢাল বৃদ্ধি পায়। (iii) এটি নেতিবাচক প্রক্রিয়া।
উদাহরণঃ ক্ষয়জাত ভূমিরূপ (গিরিখাত, করি, গৌর)

5. আরোহণ প্রক্রিয়া কী?

Ans : নদী, হিমবাহ, বায়ু বহির্জাত শক্তি দ্বারা ভূপৃষ্ঠ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার পর সেই ক্ষয়জাত পদার্থসমূহ কোনো নিম্নস্থানে সঞ্চিত হয়। ফলে স্থানটি পূর্বাপেক্ষা বেশি উচ্চতা লাভকরে। একে বলে আরোহণ প্রক্রিয়া।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। (ii) আরোহণ হল ইতিবাচক প্রক্রিয়া। (iii) ভূমির ঢাল কমে যায়।
উদাহরণঃ সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ (পলল শব্দ, বাখান, এসকার)

6. পর্যায়ন কী?

Ans : বহির্জাত প্রক্রিয়াসমূহের সম্মিলিত ক্ষয় ও সঞ্চয়কাজের মাধ্যমে ভূমিভাগের উপরিভাগের অনিয়মিত রূপরেখাকে একটি সাধারণ তলে নিয়ে আসাকে বলে পর্যায়ন।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) সুষম চাপযুক্ত ভূমিরূপ তৈরি হয়। (ii) ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা স্থানান্তরিত হয়।


⊛ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলকউত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান : 3

1. অবরোহণ ও আরোহণের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 

Ans :

বিষয় অবরোহণ আরোহণ
প্রকৃতি অবরোহণ হল নেতিবাচক প্রক্রিয়া। আরোহণ হল ইতিবাচক প্রক্রিয়া।
উচ্চতা ভূমির উচ্চতা কমে যায়। ভূমির উচ্চতা বেড়ে যায়।
ঢাল ভূমির ঢাল ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। ভূমির ঢাল কমে যায়।
শেষ সীমা আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয়, শিলার প্রকৃতি। ভূমির ঢাল, ক্ষয়িত পর্যায়ের পরিমাণ, বিয়োজক।
উদাহরণ গিরিখাত, গৌড়, করি প্রভৃতি। প্লাবনভূমি, বার্খান, ড্রামলিন প্রভৃতি।


🟢 জেনে রাখো - Smart Study
  • বহির্জাত প্রক্রিয়ার মূল উৎস হল-সূর্য।
  • যে প্রক্রিয়ার দ্বারা শিলাস্তর নগ্ন হয় তাকে বলে নগ্নীভবন।
  • প্রথম পর্যায় গঠিত ভূমিরূপ-পর্বত।
  • আবহবিকারের ফলে শিলাচূর্ণ হল- রেগোলিথ।
  • গঙ্গা নদীর ক্ষয়ের শেষ সীমা-বঙ্গোপসাগরের জলতল।
  • ভূপৃষ্ঠে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তার করে নদী।
  • আবহবিকারজাত পদার্থ পর্বতের ঢাল বরাবর নীচের দিকে নেমে আসে অভিকর্ষ শস্তির টানে তা হল পুঞ্জিত ক্ষয়।
  • আরোহণ ও অবরোহণের সম্মিলিত ফল-পর্যায়ন।
  • ক্ষয়ের শেষ সীমা কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন-পাওয়েল।
  • হিমালয় পর্বতের উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধির কারণ হল-পাতসংস্থানজনিত কারণ।


◉ 1.2  নদীর কাজ ◉

⊛ বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি - মান : 1

1. নদীর অত্যধিক নিম্নক্ষয়ের ফলে সৃষ্টি হয় - 
 (A) নদী বাঁক
 (B) গিরিখাত
 (C) পলল ব্যজনী
 ( D) কোনোটিই নয়
Ans : (B) গিরিখাত

2. নদী উচ্চগতিতে যে ক্ষয় বেশি হয় - 
 (A) পার্শ্বক্ষয়
 (B) দ্রবণ ক্ষয়
 (C) নিম্নক্ষয়
 (D) কোনোটিই নয়
Ans : (C) নিম্নক্ষয়

3. নদী প্রবাহ পরিমাপের একক হল -
 (A)  ডেসিবেল
 (B) কিমি
 (C) কিউসেক বা কিউমেক
 (D) মিটার
Ans : (C) কিউসেক বা কিউমেক

4. ভারতের উচ্চতম জলপ্রপাত হল -
 (A)  যোগ
 (B) নায়াগ্রা
 (C) আঞ্জেল
 (D) কুঞ্চিকল
Ans : (D) কুঞ্চিকল

5. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা হল -
 (A) নীল
 (B) গঙ্গা
 (C) গোদাবী
 (D) আমাজন
Ans : (D) আমাজন

6. পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ দেখা যায় ভারতের কোন্‌ নদীত?
 (A) মিসিসিপি
 (B) কৃষ্ণা
 (C) গোদাবরী
 (D) কারেবী
Ans : (B) কৃষ্ণা

7. ভোলা সাইক্লোনে উত্থিত দ্বীপটি হল-
 (A) লোহাচড়া
 (B) নিউমুর
 (C) ঘোড়ামারা
 (D) সুন্দরবন
Ans : (B) নিউমুর

8. নর্মদা ও তাপ্তি নদীর মাঝের জলবিভাজিকা হল-
 (A) সাতপুরা পর্বত
 (B) বিন্ধ্য পর্বত
 (C) আরাবল্লী পর্বত
 (D) হিমালয় পর্বত
Ans : (A) সাতপুরা পর্বত

9. মন্ত্রকূপ সৃষ্টি হয় যে প্রক্রিয়ায়-
 (A) অবঘর্ষ
 (B) ঘর্ষণ
 (C) দ্রবণ
 (D) বুদবুদ
Ans : (A) অবঘর্ষ

10. নদীর ক্ষয়কার্যের পদ্ধতিগুলি হল-
 (A) বুদবুদ ক্ষয়
 (B) অবঘর্ষ ক্ষয়
 (C) ঘর্ষণ ক্ষয়
 (D) সবগুলি
Ans : (D) সবগুলি

11. নদীর তলদেশের সঙ্গে নদীবাহিত শিলাখণ্ডের আঘাতকে বলে-
 (A) বুদবুদ ক্ষয়
 (B) অবঘর্ষ ক্ষয়
 (C) দ্রবণ ক্ষয়
 (D) জলপ্রবাহ ক্ষয়
Ans : (B) অবঘর্ষ ক্ষয়

12. নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বেড়ে গেলে তার বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে-
 (A) 5 গুণ
 (B) 10 গুণ
 (C) 64 গুণ
 (D) 120 গুণ
Ans : (C) 64 গুণ


⊛ শূন্যস্থান পূরণ করো - মান : 1

1. প্লাবনভূমি সৃষ্টি হয় নদীর __________ গতিতে।
2. যে উচ্চভূমি নদী নদীকে পৃথক করে তাকে বলে __________।
3. নদীঘাতে সৃষ্ট গর্তকে বলে __________।
4. সুন্দরবনের বৃহত্তম দ্বীপ হল __________।
5. বহিঃবিধৌত সমভূমি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হলে তাকে বলে __________।
6. পৃথিবীর বৃহত্তম খাঁড়ি হল __________।
7. ভ্যানিশিং দ্বীপ নামে পরিচিত __________।
8. একই নদীতে অনেকগুলি ছোটো ছোটো জলপ্রপাত থাকলে তাকে বলে __________।
9. পার্বত্য প্রবাহে নদীর প্রধান কাজ হল __________।
10. জলপ্রপাত ধাপে ধাপে নেমে এলে তাকে বলে __________।
11. বিপুল পরিমাণে জলরাশি ফুলে ফেঁপে ভয়ঙ্কর রূপে ঝাঁপিয়ে পড়লে সেই জলপ্রপাতকে বলে __________।
12. জলপ্রপাত ক্রমশ নদীর __________ দিকে সরতে থাকে।

[উত্তরমালাঃ 1. নিম্ন, 2. জলবিভাজিকা, 3. মন্থকূপ, 4. সাগরদ্বীপ, 5. ভ্যালি ট্রেন, 6. রাশিয়ার ওব নদীর, 7. লোহাচড়া দ্বীপ, 8. কাসকেড, 9. ক্ষয় করা, 10. কাসকেড, 11. ক্যাটারাক্ট, 12. উৎসের।]


⊛ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও - মান : 1

1. পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ কোনটি?
Ans : গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর বদ্বীপ।

2. জলপ্রপাত যদি উৎসের দিকে সরে আসে তাকে কী বলে?
Ans : জলপ্রপাতের পশ্চাৎপসরণ।

3. কোন অঞ্চলে ক্যানিয়ন সৃষ্টি হয়?
Ans : শুষ্ক অঞ্চলে।

4. নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথকে কী বলে?
Ans : মিয়েন্ডার।

5. ষষ্ঠঘাতের সূত্রের উদ্ভাবন কে করেন?
Ans : ডবলু হপকিনস্ (বিতকির্ত প্রশ্নঃ কোনো কোনো বইতে গিলবার্ট দেওয়া হয়েছে।)

6. সুন্দরবনের বৃহত্তম দ্বীপ কোনটি?
Ans : সাগরদ্বীপ।

7. পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা কোনটি?
Ans : আমাজন।

8. চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে নদীর কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কার্য হয়?
Ans : দ্রবণ ক্ষয়।

9. পার্বত্য গতিতে নদীর প্রধান কাজ কোনটি?
Ans : ক্ষয়সাধন।

10. একটি তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপের উদাহরণ দাও।
Ans : স্পেনের এব্রো ও ইতালীর তাইবার নদীতে।

11. পলল ব্যজনী নদীর কোন্ গতিতে সৃষ্টি হয়?
Ans : মধ্যগতিতে।

12. পার্বত্য প্রবাহে নদীর নিম্নক্ষয় ঘটে কোন প্রক্রিয়ায়?
Ans : অবঘর্ষ।

13. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায় নদীর কোন গতিতে?
Ans : নিম্নগতি।

14. সুন্দরবনকে কত সালে বিশ্ব হেরিটেজ সাইটের অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে?
Ans : 1987 সালে।

15. সুন্দরবনের কোন দ্বীপটি বিশ্ব উন্নায়নের ফলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়?
Ans : নিউমুর দ্বীপ।

16. নদী বাঁকের উত্তল অংশের সঞ্চয়কে কী বলে?
Ans : বিন্দুবার।

17. পার্বত্য প্রবাহে নদী কোন্ প্রক্রিয়ায় নিম্নক্ষয় করে?
Ans : অবঘর্ষ।

18. যে উচ্চভূমি দুটি নদীকে পৃথক করে তাকে কী বলে?
Ans : জলবিভাজিকা।

19. শুষ্ক অঞ্চলের গিরিখাতকে কী বলে?
Ans : ক্যানিয়ন।

20. সুন্দরবনের কোন্ দ্বীপটি বিশ্ব উয়ায়নের ফলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে?
Ans : লোহাচড়া। 


⊛ শুদ্ধ/অশুদ্ধ লেখো - মান : 1

1. গঙ্গা নদীর বদ্বীপ হল তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ।
2. নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথকে বলে মিয়েন্ডার।
3. গঙ্গা নদীর উচ্চগতি হল গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত।
4. নদী সংক্রান্ত শাস্ত্রকে বলে পোটামলজি।
5. ঘোড়ামারা দ্বীপকে বাংলাদেশে বলে দক্ষিণ তালপট্টি।
6. মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ দেখতে পাখির পায়ের মতো।
7. ফানেল আকৃতির চওড়া নদী মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
8. জলপ্রপাতের পাদদেশে মন্থকূপ তৈরি হয়।
9. ভারতের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখা যায় শিলাবতী নদীতে।

[উত্তরমালাঃ 1. অশুদ্ধ, ধনুকাকৃতি বদ্বীপ, 2. শুদ্ধ, 3. শুদ্ধ, 4. শুদ্ধ, 5. অশুদ্ধ, নিউমুর, 6. শুদ্ধ, 7. শুদ্ধ 8. অশুদ্ধ, প্রপাতকূপ 9. শুদ্ধ]

⊛ সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান : 2

1. ধারণ অববাহিকা কী?

Ans : উৎস অঞ্চলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঝরনা ও ক্ষুদ্র জলধারা একত্রে মিলিত হয়ে নদীর উৎপত্তি ঘটায়। নদীর উৎস অঞ্চল অধিকার করে থাকা এই অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা বলে।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) অঞ্চলটি সংকীর্ণ হয়। (ii) নদীর ক্ষয়কার্য বেশি হয়। (iii) নদীর নিম্নক্ষয় বেশি হয়।
উদাহরণ: গোমুখ থেকে হরিদ্বার পর্যন্ত পার্বত্য অববাহিকার গঙ্গার ধারণ অববাহিকার উদাহরণ।

2. জলবিভাজিকা কী?

Ans : পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততোধিক নদী গোষ্ঠী বা নদী অববাহিকা পরস্পর থেকে যে উচ্চভূমি দ্বারা পৃথক হয়, তাকে বলে জলবিভাজিকা।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) দুটি নদী অববাহিকাকে পৃথক করে। (ii) সাধারণত পাহাড়, পর্বত হয়ে থাকে। (iii) উৎসের দিকে নিম্নক্ষয়ের ফলে এটি পশ্চাদপদারণ করে।
উদাহরণ: মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টক পর্বত, শোন এবং নর্মদা নদীর জলবিভাজিকা।

3. নদী অববাহিকা কী?

Ans : প্রধান নদী ও তার উপনদী এবং শাখানদী যে অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় অর্থাৎ যে অঞ্চলের জল ওই নদী ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাকে বলে নদী অববাহিকা।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) বন্যায় নদী অববাহিকা প্লাবিত হয়। (ii) নদী অববাহিকায় নদীর ক্ষয় ও সঞ্চয় দেখা যায়। (iii) নদীর ধারে অবস্থিত নিম্নভূমি যা ক্রমশ ঢালু হয়ে নদী গর্ভের দিকে নেমে যায়।
উদাহরণ: আমাজন নদী অববাহিকা পৃথিবীর বৃহত্তম এবং ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা গঙ্গা নদীর অববাহিকা।

4. উপনদী কী?

Ans : প্রধান নদী প্রবাহকালে যেসব ছোটো ছোটো নদী পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে কোনো নির্দিষ্ট ঢাল বা খাত বরাবর মূল নদীতে মিলিত হয়, তাকে বলা হয় উপনদী।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) উপনদীর নদী উপত্যকা 'V' আকৃতির হয়। (ii) মূল নদীতে জলের যোগান দেয়। (iii) উচ্চভূমির ঢাল অনুসারে নেমে এসে মূল নদীতে মিলিত হয়।
উদাহরণ: গঙ্গার উপনদী-রামগঙ্গা, ঘর্গরা, গণ্ডক, কোশী।

5. শাখানদী কী?

Ans : মূল নদী বা প্রাচীন নদীর প্রবাহ পথ থেকে যে সমস্ত জলধারা বেরিয়ে এসে পৃথক হয় তাদের মূল নদীর শাখা নদী বলে।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) মূল নদীতে জলের পরিমাণ কম থাকে। (ii) মূল নদীর জলস্রোতের গতিবেগ কম থাকে। (iii) নদী বক্ষ প্রশস্ত ও অগভীর হয়। (iv) শাখা নদী মূলত বদ্বীপ বা নিম্নগতিতে সৃষ্ট হয়।
উদাহরণ: পদ্মা ও ভাগীরথী গঙ্গার দুই শাখা নদী।

6. ষষ্ঠঘাতের সূত্র কী?

Ans : নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা 26 গুণ অর্থাৎ 64 গুণ বৃদ্ধি পায়। ঠিক একইভাবে জলের গতিবেগ বর্তমান গতিবেগের অর্ধেক হলে বহন ক্ষমতা 1/64 গুণ কমে যায়। নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার সম্পর্ককে বলে ষষ্ঠঘাতের সূত্র।
■ সৃষ্টিঃ 1. নদীর পুনর্যৌবন লাভ: 2. ভূমিকম্পজনিত কারণ।
প্রবর্তকঃ W. Hopkins 1842 খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তন করেন।
সূত্র: CV [C= competence (বহন ক্ষমতা) V = Velocity বা গতিবেগ।

7. নিক পয়েন্ট বা নিক বিন্দু কী?

Ans : ভূমিরূপের পুনর্যৌবন লাভের ফলে নদীর দৈর্ঘ্য বরাবর মৃদু পুরানো ঢাল ও খাড়া নতুন ঢালের সংযোগ বিন্দুতে যে ঢালের বিচ্যুতি সৃষ্টি হয় তাকে বলে নিক পয়েন্ট।
■ বৈশিষ্ট্য: (১) নিক বিন্দুতে নদীর মস্তকমুখী ক্ষয় দ্রুত হতে থাকে। (ii) নিক বিন্দু্যুতে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণঃ সুবর্ণরেখা নদীর নিক পয়েন্ট হল হুডু জলপ্রপাত।

8. প্রপাত কূপ কী?

Ans : জলপ্রপাতের জল যেখানে উপর থেকে নীচে পড়ে নদী খাতের সেই আংশে অনেকটা হাঁড়ির মতো দেখতে বিশালাকৃতি গর্ত সৃষ্টি হয় সেই গর্তকে বলে প্রপাত কূপ।
■ বৈশিষ্ট্য: (i) জলপ্রপাতের জলের পরিমাণ এবং উচ্চতা অধিক হলে প্রপাতকূপ বৃহদাকৃতি হয়। (ii) মূলত অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কার্যের ফলে প্রপাতকূপ সৃষ্টি হয়।
উদাহরণঃ (i) ছত্রিশগড় রাজ্যের তিখরগড় জলপ্রপাতের নিচে সৃষ্ট গর্ত প্রপাতকূপ।

9. নদীগ্রাস কী?

Ans : বিভিন্ন জলনির্গম প্রণালীর বিবর্তনের ফলে একটি নদীর জল অপর নদীর মধ্যদিয়ে বয়ে গেলে তাকে নদী গ্রাস বলে।
■ সৃষ্টিঃ (i) মস্তকমুলী ক্ষয়কার্য নদীগ্রাস সৃষ্টির জন্য দায়ী। (ii) নদীর বোঝা হ্রাস পেলে, (iii) দুটি অনুগামী নদীর মধ্যে একটি অপরটি থেকে শক্তিশালী হয়ে সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: ভাগীরথী ও শাখানদী নদীর গ্রাসের ঘটনা।

10. খাঁড়ি কী?

Ans : সমভূমির প্রবাহপথ পেরিয়ে নদী সাগর বা মহাসাগরে মেশার সময় নদী আরা ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত ফানেল আকৃতির মোহনাকে খাঁড়ি বলে।
■ বৈশিষ্ট্যঃ (i) এর মধ্য দিয়ে জোয়ারের সময় লবণাক্ত জল নদীর ভিতর প্রবেশ করে, ভাটার সময় নদীর জল সমুদ্রে মেশে। (ii) সমুদ্র থেকে আসা প্রবল জোয়ারে নবীন পলি সন্দয়ে গঠিত পাড় ভেঙে খাঁড়ি সৃষ্টি হয়। (iii) জোয়ারের জল নদীখাতে ঢুকে নদী উপত্যকাকে চওড়া করে দেয়।
উদাহরণ: রাশিয়ার ওব নদীর মোহানার খাঁড়ি।

11. ক্ষয়ের শেষ সীমা কী?

Ans : নদী দ্বারা উপত্যকার তলদেশ যে নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত সর্বাধিক ক্ষয় করার সক্ষমতাকে ক্ষয়ের শেষ সীমা বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ হল নদী ক্ষয়ের সর্বজনীন শেষ সীমা।
John Wesley Powell 1875 সালে প্রথম ক্ষয়ের শেষ সীমা দেন।

12. পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়?

Ans : উত্তর (i) মোহনার কাছে নদীর জলের ঘনত্ব যদি সমুদ্রের চেয়ে কম হয় এবং নদীর গতিবেগ বেশি হলে এই বদ্বীপ সৃষ্টি হয়। (ii) শাখা নদীর পাশে পদার্থ জমা হতে থাকে। ফলে মূল, শাখা নদী সমূহের মাধ্যমে বদ্বীপ দেখা যায়।
উদাহরণ: ( i) মিসিসিপি মিসৌরি নদী (উত্তর আমেরিকা), (ii) কৃষ্ণা নদী (ভারত)।

13. নদী উপত্যকা কী?

Ans : উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত গতিপথের দু-পাশে উচ্চভূমির মাঝে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ নিম্নভূমির মধ্যে দিয়ে নদীর জলধারা প্রবাহিত হয়, তাকে বলে নদী উপত্যকা।
উদাহরণ: গঙ্গা নদীর উপত্যকা।

14. জলচক্র কী?

Ans : জল তার বিভিন্ন অবস্থায় (কঠিন, তরল, গ্যাসীয়) শিলামণ্ডল, বারিমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে ক্রমাগত অপ্রতিহত অবস্থায় আবর্তিত হয়ে চলেছে। জলের এই চক্রাকার আয়তন কে বলে জলচক্র।
■ সূত্র: P=E+ R [P= Precipitation (অধঃক্ষেপণ), E = Evaporation (বাষ্পীভবন), R = Run off (জলপ্রবাহ)


⊛ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান : 3

1. গিরিখাত ও ক্যানিয়নের পার্থক্য লেখো।

Ans : 

বিষয় গিরিখাত ক্যানিয়ন
অঞ্চল বৃষ্টিপাতযুক্ত আর্দ্র অঞ্চলে গিরিখাত গড়ে ওঠে। শুষ্ক মরু প্রায় অঞ্চলে ক্যানিয়ন গড়ে ওঠে।
ক্ষয়কাজ নিম্নক্ষয়ের পাশাপাশি পার্শ্বক্ষয় দেখা যায়। কেবলমাত্র নিম্নক্ষয় দেখা যায়।
উৎপত্তি সুউচ্চ নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়। মরুপ্রায় উচ্চভূমিতে দেখা যায়।
উপত্যকা উপত্যকা সংকীর্ণ ও ইংরেজি 'V' আকৃতি হয়। উপত্যকা ইংরেজি 'I' আকৃতি হয়।
উপনদী সংখ্যা বৃষ্টি বহুল স্থান বলে উপনদী বেশি। শুষ্ক অঞ্চল হবার দরুন উপনদী কম।
উদাহরণ নেপালের কালিগণ্ডকী গিরিখাত। কলরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।


2. নদী মোহনায় বদ্বীপ গড়ে উঠার অনুকূল পরিবেশ লেখো।

Ans : প্রবাহ পথের শেষে নদী যেখানে সাগর, হ্রদ বা অন্য নদীতে মেশে, ভূমির ঢাল কমে যাওয়ায় সেই মোহনা অংশে নদী বাহিত কাদা পলি, বালি স্তরে সঞ্চিত হয়ে যে মাত্রাহীন 'ব' বা গ্রিক অক্ষর '∆' ডেল্টার ন্যায় যে ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে বলে বদ্বীপ। বদ্বীপ কথাটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন হেরোডোটাস।
■ নদী মোহনায় বদ্বীপ গড়ে উঠার কারণ-
i. বৃহৎ নদী অববাহিকা: দীর্ঘ প্রবাহপথ এবং বহুসংখ্যক উপনদীযুক্ত বৃহৎ নদী অববাহিকায় প্রচুর পলি, নুড়ি, বালি মোহনা পর্যন্ত বয়ে আসায় বদ্বীপ গঠনে সহায়তা করে।
ii. কোমল শিলার উপস্থিতি: ধারণ অববাহিকা এবং নদীর বাকি অববাহিকা অংশে কোমল শিলা থাকলে ক্ষয়কাজ দ্বারা নদীতে বোঝার পরিমাণ বাড়ে এবং বদ্বীপ গঠন সহজ হয়।
iii. আবদ্ধ সমুদ্র : উন্মুক্ত সমুদ্রের তুলনায় আবদ্ধ সমুদ্রে বদ্বীপ গঠনের কাজ সহজ হয়। আবদ্ধ সমুদ্রের কারণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হওয়া নদীতে বদ্বীপ বেশি আছে।
iv. সমুদ্র জলের লবণতা ও ঘনত্ব : অধিক লবণাক্ত জলের ঘনত্ব বেশি হয়। তাই মোহনায় সমুদ্রের জলের লবণতা বেশি হলে পলি সঞ্চয়ে বদ্বীপ গঠনের কাজ সহজ হয়।
v. শান্ত সমুদ্র : মোহনার কাছে সমুদ্রে জোয়ারভাটার প্রকোপ কম থাকলে এবং সমুদ্র শান্ত হলে সহজে নদীর বয়ে আনা পলি দ্বারা বদ্বীপ গঠিত হয়।
vi. অগভীর সমুদ্র: মোহনায় সমুদ্রের গভীরতা বেশি হলে নদীবাহিত বোঝা মোহনার সন্নিকটে সঞ্চয় না হয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই সমুদ্র অগভীর হলে বদ্বীপ গঠন সহজ হয়।

3. বদ্বীপের শ্রেণিবিভাগ করো।

Ans : মোহনায় এসে নদীগর্ভে পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হয়ে নদীবক্ষে ত্রিকোণাকার ভূমি ভাগ গড়ে উঠে তাকে বদ্বীপ বলে।

A. গঠন ও আকৃতি অনুযায়ী:
i. ধনুকাকৃতি বদ্বীপ: ইংরেজি Arcuate শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Arcus থেকে এসেছে
যার অর্থ ধনুক। নদী মোহনায় জমা হওয়া পলিরাশিকে দুর্বল স্রোত অপসারণ করতে পারে না, তখন নদীবাহিত পলিরাশি সমুদ্রের দিকে পাখার মতো জমা হয়। যেমন- পো, নীল, রোন, গঙ্গা নদীর বদ্বীপ।
ii. পক্ষী সদৃশ বদ্বীপ: পাখির পায়ের আঙুলের মতো দেখতে বদ্বীপ কে বলে পক্ষী সদৃশ বদ্বীপ। যেমন-মিসিসিপি, কৃষ্ণা নদী।
iii. তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ: বদ্বীপ যখন করাতের দাঁতের মতো হয়ে সমুদ্রে প্রবেশ করে তাকে বলে তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ। যেমন- স্পেনের এব্রো, ইটালির তাইবার 'নদীর বদ্বীপ, সুর্বণরেখা নদী (ভারত।)

B. অবস্থান অনুযায়ী:
(i) ত্রিকোণাকার বদ্বীপ: উপনদী যখন মূল নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে নুড়ি, কাদা জমা হয়ে ত্রিকোণাকার ভূমিরূপে গড়ে তোলে। যেমন- দামোদর নদ, হুগলী নদীতে জমা হয়।
(ii) সামুদ্রিক বদ্বীপ: মোহনার নিকট সমুদ্র অগভীর হলে পদার্থসমূহ জমা হয়ে যে বদ্বীপ গড়ে তোলে, তাকে বলে সামুদ্রিক বদ্বীপ। যেমন- সুন্দরবনের বদ্বীপ।
(iii) হ্রদ বদ্বীপ: ওদের জলরাশিতে নদীর জল এসে পড়লে সেখানে বদ্বীপ গড়ে উঠে। যেমন- কাস্পিয়ান সাগর।

4. নদীর বহন কার্যের প্রক্রিয়া লেখো।

Ans : নদী তার বহন কার্যের প্রক্রিয়াকে চার ভাগে ভাগ করে থাকে।
(i) আকর্ষণ প্রক্রিয়া: বৃহৎ শিলাখণ্ড নদীর তলদেশে ভার বা বোঝা হয়। নদীর স্রোতের টানে নদীর তলদেশ দিয়ে গড়িয়ে লাফিয়ে চলে।
(ii) লম্ফদান প্রক্রিয়া: ছোট ছোটো শিলাখণ্ড, নুড়ি পাথর জলস্রোতের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে লাফায়।
(iii) ভাসমান প্রক্রিয়া: ছোটো আকৃতির শিলা, বালি, পলি জলস্রোতের সঙ্গে ভাসতে
থাকে।
(iv) দ্রবণ প্রক্রিয়া: শিলাস্তরে দ্রবণশীল উপাদান থাকলে যেমন-লবণ, চুনাপাথর, জিপসাম দ্রবীভূত হয়।

5. নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়া লেখো।

Ans : শিলাস্তরের গঠন, বুনন বাহিত জলের গতিবেগ, ভূমির ফলের উপর নির্ভর করে নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়ায় চার ভাগে ভাগ করা হয়।
(i) জলপ্রবাহ দ্বারা ক্ষয়: জলপ্রবাহের শক্তি একাই প্রভাব বিস্তার করে এবং নদীর তলদেশের শিলার উপর দিয়ে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো দাগ সৃষ্টি করে।
(ii) ঘর্ষণ প্রক্রিয়া: প্রবাহিত জলের সঙ্গে যে সব বড়ো পাথর বাহিত হয়ে পরস্পর ঘর্ষণে সেগুলি ক্ষয় হয়ে নুড়ি, কাঁকর বালিতে পরিণত হয়।
(iii) অবঘর্ষ প্রক্রিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে গড়িয়ে অগ্রসর হলে গোলাকার পাথরগুলি ছোটো আকারের কণাগুলি ভেঙে ফেলে ও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে।
(iv) দ্রবণ প্রক্রিয়া: জলের সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় বাহিত রাসায়নিক পদার্থগুলির সংস্পর্শে এলে শিলার বিক্রিয়া ঘটে।


⊛ রচনাভিত্তিক উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন - মান : 5

1. নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপ চিত্রসহ আলোচনা করো।

Ans : পার্বত্য প্রবাহে বা উচ্চ গতিতে নদীর প্রধান কাজ হল ক্ষয়সাধন বিশেষত অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদী তার উপত্যকার নানান ধরনের ভূমিরূপ সৃষ্টি করে।
i. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন:

■ গিরিখাত (Gorge)

সংজ্ঞা: সুউচ্চ নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের মাত্রা অধিক হওয়ায় নদী উপত্যকা সংকীর্ণ, খাড়া ঢাল বিশিষ্ট ও অতি গভীর হয়। এই ধরনের অতিগভীর, সংগঠন ও খাড়া ঢাল বিশিষ্ট নদী উপত্যকাকে বলে গিরিখাত।

অর্থ: প্রাচীন ফরাসি শব্দ 'Gorge' অর্থ হল 'সংকীর্ণ অংশ'।
বৈশিষ্ট্য: (i) বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে আর্দ্র পরিবেশে গড়ে উঠে। (ii) নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে পার্শ্বক্ষয়ের প্রভাব থাকে। (iii) এই উপত্যকা ইংরাজি 'V' আকৃতির ন্যায় হয়ে থাকে। (iv) উপত্যকা কম সংকীর্ণ ও গভীর হয়। (v) আর্দ্র অঞ্চল বলে এখানে উপনদীর সংখ্যা বেশি থাকে।
উদাহরণ: নেপাল হিমালয়ের কালিগন্ডকী নদীর উপর কালিগন্ডকী গিরিখাত।

■ ক্যানিয়ন (Canyon)
সংজ্ঞা: উষ্ণ ও শুষ্ক অঞ্চলে সংকীর্ণ ও গভীর গিরিখাতকে বলা হয় ক্যানিয়ন।
অর্থ: স্পেনীয় শব্দ 'Canon' থেকে 'Canyon' শব্দটির আগমন, যার অর্থ হল নল (Tube)।

বৈশিষ্ট্য: (i) শুষ্ক মরু প্রায় অঞ্চলে ক্যানিয়ন গড়ে উঠে। (ii) কেবলমাত্র নিম্নক্ষয় দ্বারা
উপত্যকা গড়ে উঠে। (iii) উপত্যকা অধিক সংকীর্ণ ও গভীর হয়। (iv) উপত্যকার আকৃতি ইংরাজি 'T' আকৃতি হয়। (v) শুষ্ক অঞ্চলে গড়ে উঠে বলে উপনদীর সংখ্যা কম।
উদাহরণ: তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর উপর সাংপো ক্যানিয়ন।

ii. জলপ্রপাত: পার্বত্য গতিপথে নদী উপত্যকার ঢাল হঠাৎ খাড়াভাবে নিচে নেমে এলে নদীর জল উপর থেকে নিচে পড়তে থাকে। খাড়া ঢালে প্রবল বেগে নিচে পড়তে থাকা জলরাশিকে জলপ্রপাত বলা হয়।

সৃষ্টির কারণ: (i) নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পাশাপাশি উল্লম্ব বা অনুভূমিকভাবে অবস্থান করলে। (ii) ভূ-আলোড়নের ফলে নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে চ্যুতি সৃষ্টি হলে। (iii) হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ঝুলন্ত উপত্যকা মধ্যে নদী পতিত হলে। (iv) মালভূমির খাড়া প্রান্ত ভাগের উপর দিয়ে নদীপ্রবাহ হলে। (v) নদীর পুনর্যৌবন লাভের সৃষ্ট নিক পয়েন্ট বিন্দু সৃষ্টি হলে জলপ্রপাত গড়ে উঠে।

শ্রেণি: ভূমিরূপবিদগণ নদীতে জলের পরিমাণ, ভূমির ঢাল ও জলের নেমে আসার গতি অনুসারে জলপ্রপাতকে তিন ভাগে ভাগ করেন-
a) খরস্রোত বা র‍্যাপিডস (কঙ্গো নদীর লিভিংস্টোন জলপ্রপাত)
b) ক্যাসকেড (অ্যায়ারল্যান্ডের টিয়ারস অব দ্য প্লেন)
c) ক্যাটারাক্ট (আফ্রিকার জাম্বোজি নদীর উপর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত

উদাহরণ: ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের শিমোগা জেলায় অবস্থিত ভারাহি নদীর উপর কুষ্ণিকল জলপ্রপাত উচ্চতম জলপ্রপাত।

iii. মন্থকূপ: পার্বত্য প্রবাহে নদীর স্রোতে চলে আসা প্রস্তর খন্ডের সঙ্গে নদীখাতের সংঘর্ষের কারণে উপত্যকার তলদেশে সৃষ্ট গর্তে পরবর্তী সময়ে প্রস্তরখন্ড সহ জল গর্তের মধ্যে চক্রাকারে ঘুরে কেটলি আকৃতির যে ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বলে।

বৈশিষ্ট্যঃ (i) অবঘর্ষ ও বুদবুদ ক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে মন্থকূপ সৃষ্টি হয়। (ii) মন্থকূপ বা পটহোলের পরিধি অপেক্ষা গভীরতা বেশি হয়। (iii) অববর্ষ প্রক্রিয়ায় মন্থকূপের পার্স্বদেশ মসৃণ হয়। (iv) মন্থকূপ কেটলির ন্যায় আকৃতি বিশিষ্ট হয়। (v) উচ্চ গতিতে নদীর তলদেশে দেখা যায়।

উদাহরণ: দামোদর নদের উচ্চপ্রবাহে দেখা যায়।

2. নদীর সঞ্চয়জাত ভূমিরূপের চিত্রসহ বিবরণ দাও। (তিনটি)।

Ans : মধ্য ও নিম্নগতিতে নদীর প্রধান কাজ বহন ও সঞ্চয়। নদীর এই ধরনের কার্যে নদী উপত্যকা গভীরতা হ্রাস পায়। উপত্যকা অগভীর হওয়ার জলের পরিমাণ বাড়লেও নদী নিম্নক্ষয় করতে পারে না, তবে সামান্য পার্শ্বক্ষয় করে।
■ নিম্নে তিন প্রকার ভূমিরূপ নিয়ে আলোচনা করা হল-

i. পলল শঙ্কু: প্রবাহপথে ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় পর্বতের পাদদেশে নদীবাহিত বোঝা (গুড়ি, বোল্ডার) ত্রিকোণাকারে সঞ্চিত হয়ে গঠিত মাঝারি ঢাল বিশিষ্ট ও স্বল্পবিস্তৃত ভূমিরূপকে বলে পলল শঙ্কু।
বৈশিষ্ট্য: (a) পর্বতের পাদদেশে শঙ্কুর আকারে গঠিত ভূমিরূপ। (b) নদী দ্বারা বয়ে আনা স্থূল পদার্থ নুড়ি, বোল্ডার, বালি দিয়ে গঠিত। (c) পলল শঙ্কুর ঢাল 15°। (d) পলল শঙ্কুর উচ্চতা বেশি, বিস্তার কম হয়। (e) আকৃতিতে ত্রিকোণাকার হয়ে থাকে।
উদাহরণ: পিন্ডার হিমবাহের নীচে নদীঘাট পর্বতের পাদদেশে দেখা যায়।

ii. প্লাবন ভূমি: ভূমির ঢাল কমে আসায় মধ্য ও নিম্ন গতিতে নদীবাহিত বোঝার সঞ্চয় দ্বারা নদীখাত অনেকখানি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার অতিরিক্ত জল নদী তার খাতের মধ্যে ধরে রাখতে না পেরে দুই কূল ছাপিয়ে সংলগ্ন অববাহিকাকে প্লাবিত করে। তাকে বলে প্লাবন ভূমি।

বৈশিষ্ট্য: (a) প্লাবনভূমি নদীর নিম্ন ও মধ্য গতিতে সঞ্চয় কার্যের ফলে গড়ে উঠে ভূমিরূপ। (b) নদীখাত নদীবাহিত বোঝার সঞ্চয় দ্বারা ভরাট হয়ে অগভীর হয়ে পড়লে প্লাবনের জল নদীবাহিত পলি সহ বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। (c) নদীবাঁক অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ, স্বাভাবিক বাঁধ গড়ে উঠে।

উদাহরণ: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মিসিসিপি, আমাজন, নীল নদীতে দেখা যায়।

iii. স্বাভাবিক বাঁধ: বন্যার পর প্লাবনের জল নদীখাতে ফিরে আসার সময় প্লাবন ভূমির পলি, বালি নদী উপত্যকার দু-পাশে জমা হয়ে সৃষ্টি হওয়া বাঁধকে বলে স্বাভাবিক বাঁধ।

■ বৈশিষ্ট্য: (i) এই বাঁধ নদীর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরালে গড়ে উঠে। (ii) বড়ো নদীর ক্ষেত্রে বাঁধের উচ্চতা 5-6 মিটার হয়। (iii) এই বাঁধ গড়ে 1.5-2 কিমি চওড়া হয়। (iv) বাঁধ নদীর দিকে সবচেয়ে বেশি চওড়া হয় ও প্লাবন ভূমির দিকে ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে নেমে যায়। (v) স্বাভাবিক বাঁধে পশ্চাৎ জলাভূমি সৃষ্টি হয় বলে তাকে লেগুন বলে।
উদাহরণ: ভারতের গঙ্গা নদী ও তার উপনদীর উপত্যকায় দুপাশে স্বাভবিক বাঁধ গড়ে উঠে।


3. পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন সুন্দরবনের উপর কীরূপ প্রভাব ফেলেছে তা ব্যাখ্যা করো।

Ans : সুন্দরবনের অবস্থান: ভারত ও বাংলাদেশের সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চল হল সুন্দরবন। দক্ষিণ 24 পরগণা জেলার ক্যানিং, বারুইপুর, কাকদ্বীপ মহকুমার দক্ষিণাংশে অবস্থিত। হুগলি নদীর খাঁড়ি থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষেত্রমনে 4100 বর্গ কিমি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অঞ্চল। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে রয়েছে 19% ও বাংলাদেশে রয়েছে 81%।
 ■জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রভাব
i. সমুদ্রতলে উয়তা বৃদ্ধি: নদীর জলের উন্নতা প্রতি দশকে 0.5°C হারে বাড়ছে। ফলে ম্যানগ্রোভ অরণ্যে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ছে।
ii. ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ সমুদ্রের জলের উয়তা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
iii. সমুদ্র তলের উত্থান ও ভূভাগ অবলুপ্তি: বিশ্ব উন্নায়নের কারণে বঙ্গোপসাগরের
জলতল উঁচু হয়ে যাচ্ছে। সুবন্দরবন উপকূলে বছরের প্রায় 200 মি উত্তরে সরে যাচ্ছে। 2000 খ্রিস্টাব্দে বঙ্গোপসাগরে জলতলের প্রথম ছিল 3.14 মিলি. মি. থেকে 2010 খ্রিস্টাব্দে ৪ হয়েছে।
iv. সমুদ্রের জলে লবণতা বৃদ্ধি: বিশ্ব উন্নায়নের কারণে সমুদ্রের জলের উন্নতা বাড়ার কারণে লবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সমগ্র জীবকূলের কাছে বড়ো সংকট।
v. কৃষিজমি ধ্বংস: সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্ত সমুদ্রের জলে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিজমি বিলুপ্ত হচ্ছে। মাটির লবণতা বাড়ছে, কাঁকড়া ও চিংড়ি চাষের ক্ষতি হচ্ছে।
vi. বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি: জলতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় নদী বাঁধ ভেঙে বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। বহু উর্বর জমি প্রবণতার কারণে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
vii. বন্য প্রজাতি হ্রাস: ম্যানগ্রোভ বনভূমির উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্বের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সুন্দরী উদ্ভিদ 40% হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির, ডলফিনদের অবস্থা বিপদাপন্ন।


🟢 জেনে রাখো - Smart Study

1. নদীর ক্ষয়ের শেষ সীমা - সমুদ্রপৃষ্ঠ।
2. পৃথিবীর বৃহত্তম অববাহিকা - আমাজন অববাহিকা।
3. পার্বত্য অঞ্চলে নদীর প্রধান কাজ - ক্ষয়সাধন।
4. মধ্য গতিতে নদীর প্রধান কাজ - বহন।
5. নিম্ন গতিতে নদীর প্রধান কাজ - সঞ্চয়।
6. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায় - মধ্য ও নিম্নগতিতে।
7. বুদ্বুদ দ্বারা শিলার গায়ে সৃষ্টি হওয়া ছোটো গর্ত - ক্যাভিটেশন।
8. পলল শঙ্কু গঠিত হয় - পর্বতের পাদদেশে।
9. পার্বত্য প্রবাহে নদীর নিম্নক্ষয় হয় - অবঘর্ষ প্রক্রিয়া।
10. নিক বিন্দুতে সৃষ্টি হয় - জলপ্রপাত।
11. লম্ফদান প্রক্রিয়া হল নদীর - বহন প্রক্রিয়া।
12. সুন্দরবনের দ্বীপগুলি ডুবে যাওয়ার কারণ - সমুদ্র জলতলের বৃদ্ধি।
13. নদীর জলের প্রবাহ পরিমাপের একক - কিউমেক বা কিউসেক।
14. সুন্দরবনের বৃহত্তম দ্বীপ - সাগরদ্বীপ।
15. ভারতের যে নদীতে পক্ষীপাদ দ্বীপ দেখা যায় - কৃষ্ণা নদী।
16. সুন্দরবনের যে দ্বীপ বিশ্ব উন্নায়নে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত - নিউমুর দ্বীপ।
17. ভারতের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন - গনগনি, শিলাবতী নদীতে।
18. নদীর ক্ষয়ের শেষ সীমা ধারণার প্রবর্তক - Powel
19. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের অপর নাম - মর্ট হ্রদ।
20. উত্তরপ্রদেশে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদকে বলে - কোর বা তাল।
21. খুব চওড়া ক্যানেল আকৃতির নদী মোহানা - খাঁড়ি।
22. বিপুল জলরাশি ফুলে-ফেঁপে ভয়ংকররূপে অতল গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়লে তাকে বলে - ক্যাটারাক্ট।
23. নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ বাড়লে বহন ক্ষমতা বাড়বে - 64 গুণ।
24. লোহাচর নিউমুর ঘোড়ামারা দ্বীপগুলি সমুদ্রজলে নিমজ্জিত হওার কারণ - বিশ্ব উন্নায়ন।
Tags
Madhyamik Madhyamik-Geography
  • নবীনতর

    Madhyamik Geography - বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ | এই অধ্যায়ের বহির্জাত প্রক্রিয়া ও নদীর কাজ এর সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 10

  • পূর্বতন

    Madhyamik Geography - বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ | এই অধ্যায়ের বহির্জাত প্রক্রিয়া ও নদীর কাজ এর সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 10

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Professional Jobs

  • Lecture Jobs
  • Competitive Exams
  • UPSC Exams
  • NEET Exams
  • Arts Passed Jobs
  • Computer Science
  • Electrical Jobs
  • Mechanical Jobs
  • Civil Jobs
  • Scholarship Data
  • School teachers TGT
  • Intermediate Candidates
  • Qualifications of PhD
  • Engineering Jobs
  • Degree Holder Jobs
  • Bsc Paased Data

Popular Jobs

Madhyamik Geography - বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ভূমিরূপ | এই অধ্যায়ের বহির্জাত প্রক্রিয়া ও নদীর কাজ এর সমস্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 10মার্চ ২৭, ২০২৬

Your Responsive Ads Code (Google Ads)

Social Plugin

Sidebar Posts

6/box-posts/recent

লেবেল

  • Madhyamik 1
  • Madhyamik-Geography 1

Qualification Wise

  • Best Jobs Engg
  • Civil Jobs Part
  • Engg Jobs Part
  • Private Jobs
  • Teacher Jobs Test
  • 8th Passed Jobs
  • Airforce Jobs
  • Indian Navy Jobs
  • Army Jobs
  • Electrical Jobs
  • 12th passed Jobs
  • 10th Passed Jobs
  • State Govt Jobs
  • All State Jobs

Categories

  • Madhyamik 1
  • Madhyamik-Geography 1
Swapno Sathi : স্বপ্ন সাথি

About Us

swapnosathi.online is a Bengali educational platform dedicated to providing quality, free educational resources. Our mission is to support students in their academic journey by offering study materials for Class 9, 10, 11, and 12.

Follow Us

  • Home
  • About
  • Contact us
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • Copyright Policy
  • Sitemap

Footer Copyright

All Right Reserved Copyright © SwapnoSathi.online 2026

যোগাযোগ ফর্ম